Sunday, February 17, 2008

একটি চা সন্ধ্যা এবং একজন গিটারিস্টের সন্ধানে - - - -

শাহজাহানপুর থেকে পোস্তগোলা খুব দূরের রাস্তা না।রাস্তা ফৃ থাকলে সময়ও বেশি লাগে না।কিন্তু আমি যাবো যাবো করেও যাই না।ভয়টা মূলত: সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীর ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম।মাইছ্যা বারবার করে বলছে- "ভাইজান নূতন দোকান দিলাম,একবারও আসলেন না।"মাইছ্যা'র ভাল নাম মাসূদ।আমাদের এলাকার খাজা রেস্টুরেন্টে মেসিয়ারের কাজ করত। আমাদের দোস্তগ্রুপের আড্ডার জায়গা ছিল খাজা রেস্টুরেন্ট।সাত/আট বছর ওখানে কাজ করার পর একদিন খবর দিল পোস্তগোলায় নিজের দোকান দিয়েছে।নানান ইতংবিতং শেষে গতকাল গেলাম মাইছ্যার দোকানে। মহানগর ষ্টীল মিলের পাশে মাইছ্যার ছোট একটা দোকান।টুলের উপর বসলাম।অলিম্পিক টিপ বিষ্কুটের নূতন একটা প্যাকেট দিল, সাথে গোয়ালীনি কনডেন্সড মিল্কের চা।মাইছ্যার সাথে নানান বিষয়ে কথা হয়,জানলাম-তার জন্য পাত্রী দেখা হচ্ছে।সর্বোচ্চ দরদাম - ২৪ইঞ্চি কালার টিভি,সাথে নগদ ৩০হাজার টাকা।মাইছ্যা একটা নকিয়া এন সিরিজের মোবাইলও চাইতেছে,এটা নিয়ে বারগেনিং চলতেছে। নকিয়া মোবাইলটা দিলেই মাইছ্যা কবুল বলে ফেলবে।মাইয়্যাও নাকি ধারে-ভারে দুই ভাবেই কাটবে।এই ধার-ভারের কথা বলার পর মাইছ্যা একটা শরমিন্দা হাসি দিল।কথা আর আগাল না,কারন - দুইটা ইয়ং ছেলে দোকানে এসে বসছে।আমি আরেক কাপ চা খাই।ঢাকা-মাওয়া রুটের যে বাসটা জ্যামে আঁটকে আছে,তার জানালায় বেগুনী জামা পরা এক তরুনীকে দেখা যাচ্ছে।আমি সে দিকে তাকিয়েই থাকি।: এত লাত্থি গুতার পরেও হালা ব্লগ ছারে না। কি সব ালের জুক্স ছাড়ে।: দুররো,আর কৈস না,হালা পুরা ফাউল।আমি মডারেটর হৈলে ওরে আইপিসুদ্ধ ব্লক মারতাম।আমি এইবার ছেলে দুইটার দিকে নজর দিই।ওদের কথায় কান পাতি।এরা কোন ব্লগের কথা বলে?কার কথা বলে?চোখ দুটা সেই বেগুনি জামার উপর রেখে কান রাখি তাদের আলাপালুচনায়।: অর ইরান যাওয়ার ঘঠনা জানোস তো?: ক্যা কি হৈসিল?: অ তো শিশু পাচারকারী টিমের খপ্পরে পড়ছিল।উটের জকি হিসাবে ইরান পাচার হৈছিল।ঐখানে ছিল ২ বছর।দেশে ফিরল,বড় হৈল।হেরপর সবাই হেরে ইরানি ডাকা শুরু করল।আর বলদাও জোর গলায় বলে-ইরান ভাল।: দোস্ত,তোদের মহল্লা বৈলা এখনো থাকতে পারে।আমগো এলাকা হৈলে তো কবেই লাত্থি দিয়া বাইর কইরা দিতাম।: হো হো।যা-ই কস, এরম কিছু ছাগল মহল্লায় থাকা দরকার।: ধুর।হালা ব্লগে ক্যামনে বলে - বাংলাদেশের চেয়ে ইরান ভাল?: এর লাইগা ধোলাই খাইছিল না?: হ।চুশমাটা দেখছস? ওয়ান পিচ।এইসব আলাপে আমার মাথায় টং টং করে হিট হয়।এরা কার কথা বলে?কোন ব্লগ?ইরান ভক্ত কে?মন চায় আরও ওদের আলাপ শুনি।মাইছ্যারে বললাম, চিনি কম দুধ বেশি আরেক কাপ চা দে।: অর হ্যান্ডিক্রাপ্ট না কি সব আবজাব আছে, ওগুলা কি অ বানাইসে?: তাইলে?: ক্যামরা নিয়া এদিক ওদিক ঘুরঘুর করে,শোপিচের দোকানে গিয়া ফটু তুলে,আর ব্লগে বলে - আমার নিজের কাজ।: কী কস? শালা ত পুরা টাউট।: খালি টাউট না, বাটপারও।ক্যামরাটার কথা কৈলাম,ঐটা চোরাই।: হৈতে পারে।: আরো ঘঠনা আছে।উটের খুরের পাড়া খেয়ে ওর ঠ্যাং দুইটা চ্যাপ্টা হৈসে ছোটবেলায়।এইটা ধামাচাপা দেয়ার লাইগ্যা কয় - মী বিগ ফিট।: হালারে রাস্তায় পাইলেই হৈসে, এমুন ধোলাই দিমু। ওর গিটারের তারমুর সব ছিড়্যা ফালামু।: অর গিটার আছে নাকি?: হো হো। তুই ত দেখি টিউব লাইট হয়া গেছস।: ওহহহহহহ। বুঝছি। হে হে হে হে হে হে।: হা হা হা হা হা হা হা হা হাসন্ধ্যা হয়ে আসতেছে।আমার বাসায় ফেরা দরকার।মাইছ্যার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। খালি বাস দেখে দৌড় দেয়ার আগ মুহুর্তে শুনলাম ছেলে দুটো বলছে: তোরেও ব্লক করছে?: হা হা, আমারেও।বাসের জানালা ভাঙা।ঠান্ডা বাতাস নাকে লাগছে।মাইছ্যার কথা ভেবে ভাল লাগল।নিজের চেষ্টায় মানুষ বড় হতে পারে,তার একটা উদাহরন।কিন্তু দোকানে আলাপরত ছেলে দু'টার কথা মাথা থেকে সরাতে পারলাম না।এতদিন ব্লগিং করি-অথচ চিনলাম না অরা কার কথা আলাপ করল? কে এমন নামকরা ইরানী গিটারিস্ট?

No comments: