Sunday, February 17, 2008
বন্ধ হোক এ উস্কানি উন্মাদনা, ব্লগিং হোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ
দেবী দূর্গার ছবি নিয়ে চমৎকার ব্যানারের জন্য ডিজাইনার ও বিবিএ টীমকে অভিনন্দন।বাংলা ব্লগিংয়ে সামহয়্যার এক পথিকৃৎ,এখনো পর্যন্ত সবচে বড় প্লাটফরম এ সাইট।রাস্ট্র-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে জায়গা করে দিচ্ছে।ভাবনার প্রকাশ ঘটছে চমতকার ভাবে।মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মডারেশন নিয়ে বিগত অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমৃদ্ধ করেছে।ব্লগাররাও পেয়েছে ভালো পরিবেশ।টেকনোলজির উন্নয়নে সাইবার সমাজ বিস্তৃতী লাভ করছে দিনদিন।অনলাইন আচরনে প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক বাস্তবতা।ব্যক্তি অথবা সামাজিক জীবনে মানুষ কি গ্রহন করবে না করবে সেটা অনেকটা রাস্ট্র এবং সামাজিক চর্চা ঠিক করে।মানুষের মনন-বিকাশ একদিনের ব্যাপার নয়।তার সামাজিক,পারিবারিক ও রাস্ট্রিক প্রভাবে তার পারিপার্শ্বিক আচরন গঠিত হয়।আর্থসামাজিক অবকাঠামো অনুযায়ী কোনটি দ্বারা বেশি প্রভাবিত হবে তা নির্ধারিত হয়।মানুষ হয়তো সব আইনের অধিনে থাকতে চায় না,স্বাধীন থাকতে পছন্দ করে, এখানেই সিভিক্সের আইন বনাম স্বাধীকার বিতর্ক চলে আসে।গনতন্ত্রের বাই দ্য পিপল কনসেপ্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সব নির্ধারন করবে কিনা সেটা বড় ব্যাপার।ব্যক্তি আচরন ভার্চুয়াল আচরনকে প্রভাবিত করতেও পারে নাও পারে।ব্লগিংয়ের কথা ধরি,যে কবি কবিতা লিখে ব্লগিং করে তার জীবন কবিতা নয়,তাকেও ভাত খেতে হয়, কাজ করতে হয়, হাসতে হয়, কাঁদতে হয়।যে সব সময় ভাল সেজে সাইবার সমাজে বিবেক সাজে সেও অসাবধানে ম্যালফাংশন করে নিজের কুৎসিত দিক প্রকাশ করে।পারস্পরিক সহনশীলতার প্রসংগে নজর দিই।বাংলাদেশ মোটামুটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেশ।এখানে আজানের শব্দ আর শংখের আওয়াজে চৌধুরী বাড়ী আর সাহা পরিবারের মানুষগুলো একাকার হয়।ধর্মকে সাথে রেখেও যুগযুগ ধরে তারা এক সাথে থাকে।কেবল কিছু ধর্মান্ধ উস্কানি দিয়ে বিভেদের চেষ্টা করে,কখনো সফলও হয়তো হয়।চলমান সময়ে পূজা নিয়ে সামহয়ার চমৎকার একটি ব্যানার করেছে।প্রতিবেশি ব্লগ সাইটগুলোয় এমন চমৎকার কাজ চোখে পড়েনি।কোনদিন বাংলা ব্লগিংয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতীর কথা লেখা হলে এ ঘঠনাটি উজ্জ্বলভাবে উল্লেখ হবে।এরপরও আমরা দেখি - ধর্মান্ধতার প্রকাশ।এমন ব্যানারের প্রতিবাদ।মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে ব্যানার সরানোর দাবি উঠেছে।এটা সত্যি, বাংলাদেশ ইসলামগরিষ্ঠ দেশ এবং মুর্তিপূজা ইসলামে হারাম।তাই বলে কি দেশে পূজা নিষিদ্ধ?কেউ কি পূজার প্রতিবাদ করছেগুটিকয় কীট-পতঙ্গ করার ইচ্ছা থাকলেও পারছে না, কারণ রাষ্ট্রের আইন ও অবস্থানে এমন উন্মাদনা সম্ভব না।এ ব্লগের নীতি নির্ধারক সামহয়ার কর্তৃপক্ষকে এখন চালকের আসনে বসতে হবে।ব্লগে যারা এরকম উন্মাদনা ছড়াচ্ছে তাদের বোঝাতে হবে,ব্লগ কোনো তালেবানী সংগঠন নয়।এটা ঠিক এ মুহুর্তেই দরকার।এ উস্কানি - উন্মাদনার সাময়িক প্রশ্রয় আগামিতে হয়তো আরো বড় দাঙ্গা ছড়াবে,এটা অনুমানে কষ্ট হয় না।তাই দাবী- বন্ধ হোক এ উস্কানি উন্মাদনা, ব্লগিং হোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ ।হ্যাপি ব্লগিং।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment