হাশেম পোদ্দার, মুনশী, বজলু মহাজন এই আইগুলা এক সাথে সৃষ্ট। এবং নূ্তন পয়দা কীরিটি রায়। এদের কাজই হলো - কথ্য ভাষায় খিস্তি খেউড় করা। সামহয়ারের মহান ঈশ্বরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও লাভ হয় নাই।বুঝা গেল - এসবই পরিকল্পিত। কৌশলে অমি পিয়ালকে দেয়ালে পিঠ ঠেকানো হলো।শাব্বাস, সামহয়ার। সাব্বাশ ব্লগাধিপতি।কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। কিন্তু কাঁঠাল পাতা আমরা খাই না। তবুও নরডিক বেনিয়া কাঁঠাল পাতার লালন বিস্তারে ছাগল পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে।হঠাৎ করে আভির্ভূত ছদ্মনিকগুলো জাদুর মোহে বলে দেয় সব। কে ব্লক হলো, কাকে ব্লক করা হবে। সব। আরিল্ড নামক কফিপ্রেমী লোকটি শুনেছি বাংলা পড়তে পারে না। বাংলা ভাষা বোধনে তার সমস্যা আছে কিনা জানি না, নাকি তার চারপাশে ঘিরে থাকা প্রভাবকরাই মূল কলকাঠি নাড়াচ্ছে?শাব্বাশ - বাঁধ ভাঙার আওয়াজ।এখানে একজন স্বরহীনের পোস্টে মুছে ফেলা হয়। একজন রাসেল(.......)এর পোস্ট সরানো হয়। অমি পিয়ালের কমেন্ট ব্লক করা হয়।মারহাবা।অথচ ইংরেজিতে ব্লাডি বাস্টার্ড গালি দিয়ে সারওয়ারচৌধরী নামক প্রাণীটি টিকে থাকে মহা আয়েশে। টিকে থাকে পুরুষ পরিচয়ে ব্লগিং করে হঠাৎ মেয়ে হয়ে যাওয়া চারকোণার হিজড়া কীট, টিকে থাকে তার চক্রের বদমাইশী নিক। আর কিছু দালাল থাকে স্টিকির লোভে।আরিল অথবা যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।খুব বেশী লজ্জা পাওয়ার দরকার নেই। সরাসরি বলেন - এই ব্লগে জামাতিরা থাকবে, ৭১কে কলংকিত করা পোস্ট থাকবে। কেউ স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা বলতে আসলে তার প্রিয় মানুষকে গালি দেয়ার জন্য কিছু ছদ্মনিক লেলিয়ে দেয়া হবে। এগুলো আপনারাই লালন করবেন।সাহস করে বলে ফেলুন, হে ঈশ্বর, পরম ক্ষমতাবান। আপনারাই তো ফ্রি ব্লগিং করতে দিয়েছেন। ডিসিশন আপনারাই নিন আগে।তারপরে আমরা।
Sunday, February 17, 2008
সা.ইন ব্লগে ২০০৭ সালের যা কিছু আলোচিত
নাটক : মিথিলা কাহিনীট্র্যাজেডী : জনপ্রিয় ব্লগারদের বিশাল অংশের ব্লগ ত্যাগসাফল্য : ভ্যালেরী টেইলর ক্যাম্পেইন (জেবতিক আরিফ)ফ্লপ : অপরবাস্তব কবি : অশ্রুপতিত ছাগু : ত্রিভুজ, আশরাফ, ফজলে এলাহীসম্ভবনাময় ছাগু: আওরঙ্গজেব, নিপুপাওয়ারপুল, শাহরিয়ার (একাধিক)ইরানপ্রেমী : নূরে আলম, ফারজানা১৬সেরা চশমার মালিক : নূরে আলম, নাজিরুল হকদাওয়াত: আলাম ভাই'র বাসায় ঈদের গেট্টুগেদারমধ্যরাতের গবেষক: মোহাম্মদ আলী আকন্দ (নদীর পানি সিরিজ)ব্লগানন্দ: সারওয়ারচৌধুরীবৃহন্নলা : চতুরভূজ, শান্তা২৯, শাপলা, ইলোরা, নুসরাত বাচ্চু, ঈদের বিনোদন: সালোয়ারের কামিজ বাতাসে ওড়ে (জেনারেলের পোস্ট Click This Link)কাম ব্যাক : শমসের আলমব্যান: যুঞ্চিক্তহিরো : এ টীমপ্রেমিক : কালপুরুষপ্রেমিকা : মো: সুমিমাফ চাওয়া : চতুরভূজ, আশরাফ রহমানমন্তব্যবাজ : রাশেদব্যানার : দেবী দূর্গার প্রতিকৃতিফর্মালিটিজ : নীতিমালাঅপ্রয়োজনীয় : গ্রুপ ব্লগিংখেলা : এসো রেটিং করিপ্রেমিক জুটি : ত্রিভূজ-অশ্রুঘৃণিত : ত্রিলোরা ও রাগ ইমনকে অপমাননিন্দিত : সাইমুমবিদায় : টপ ব্লগার, টপ রেটেড পোস্ট লিষ্ট
বনানীতে জামাল ভাইর বাসায় ঈদের গেট টুগেদার - অন্যরকম ছাগলের মাংস ...
রোজার ঈদে আলাম ভাইর বাসায় দাওয়াত খাওয়া নিয়ে বহুত খাট্টা তামশা হৈছে। ৫০জন আনব্লকড হৈলেও কেউ কেউ আবার ব্লকড এবং আলাম ভাই ব্লগ ছেড়ে চলে গেসেন।এই কারনে,এইবার বেশি ডিটেইল বলব না।যারা গেছে তাদের সবার নামও বলব না।দাওয়াত খাইতে গেসিলাম বনানী।জামাল ভাইর বাসায়।যারা জামাল ভাইরে চিনেন না তাদের অসুবিধা হৈতে পারে।তবে যারা চিনেন তাদেরকে বলি - জামাল ভাই এত জোর করে বলসে যে না করতে পারি নাই।দুপুরে খাওয়ার দাওয়াত।গেলাম বিকাল ৪টার সময়।যারা দাওয়াত পাইসে সবাই হাজির টাইম মতো।আমরা বসে বসে দেয়ালে টাঙানো জামাল ভাইর উয়াইফের ছবি দেখতেসি।হেবি শেইকসি।বিশেষ করে ----এক্কেবারে সেইরকম।ডায়নিং টেবিলে খাবার সাজানো হৈতেছে।ঘ্রান নাকে লাগতেসে।খাওয়ার টেবিলে গিয়া বসলাম।জামাল ভাই প্লেটে প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে।চেয়ারে কোনদিকে কে বসছে এইটা বলব না।এইবার সিদ্ধান্ত অন্যরকম।যাউক - আমার পাশে বসছে বড়ভাই-অচেনা বাঙালী।আমি খাতির জমাইতেসি কারণ - কোকের বোতলটা উনার হাতে।সবাই খাবো এমন সময় অচেনা বাঙালী বললেন - 'জামাল ভাই,আপনার উয়াইফ কৈ?উনাকে দেখছি না কেন?"জামাল ভাই কপাল কুচকে বললেন - "আর বইলেন না,তার এক বান্ধবী আছে শাপলা,আরব দেশে থাকে।সকাল থেকে শাপলার সাথে ফুনে কথা বলতেসে।"জামাল ভাই সালাদ দিল।আমি জিজ্ঞেস করলাম - গোশত কোনটা গরুর, কোনটা ছাগলের?জামাল ভাই বলল - "এইবার ঈদে আমি আর আপনাদের ভাবী খালি ছাগল।গরু না।"মনটা খারাপ হৈল।খানাপিনা শুরু হৈল।মাংশ সব দেখি একই ডিজাইনের ।বুঝলাম না -কোন মেশিন দিয়া এমন ডিজাইন করল?টেস্টও অন্যরকম।একটু পরে অচেনা বাঙালী বলল - "ছুটোভাই, লও কোক খাও। গোশত খাইয়া স্বাদ পাইবা না"আমি বললাম - "ঘঠনা কি? কি হৈছে? মাংশ এগুলা এরকম ক্যান?"বড়ভাই এইবার আমার গ্লাসে কোক ঢেলে দিয়ে ফিসফিস করে বললেন - "এরা যেই ছাগলটা কোরবানী দিসে ঐটা খাসি না,পাঁঠাও না": তাইলে কি?: ছাগলটা আসলে - হিজরা ছাগল?আমি তাজ্জব। কি কন? কেমনে বুঝলেন - হিজরা ছাগল?আমাকে ধাক্কা দিয়ে অচেনা বাঙালি বললেন - "দেখতেসো না সব মাংশ চাইরকোনা চাইরকোনা সাইজ।হিজরা ছাগলের মাংশই চাইরকোনা হয়।"আসলেই তো!!!!যাউক।আরও কাহিনী আছে।এখানে বলা যাবেনা।আসার সময়- জামাল ভাই আমাদের সবার পা ধরে বসে রইলেন।একটাই কথা-আপনারা অনেক পাওয়ারপুল।আপনারা চেস্টা করলে পারবেন।আমরা আশ্বাস দিলাম - দেখি চেস্টা করে।মডারেটরের কাছে দাবি জানাবো।ইচ্ছাটা আসলে জামাল ভাইর উয়াইফের।ব্লগে এতো ফিচার আসলো।অথচ এখনও উনি শখের হাসিটা ইমোটিকন করে দিতে পারছেন না।হাঁ, দাবিটা একটা চাইরকোনা হাসির ইমোটিকন। সাথে টপরেটেড ফিরে আসলেও ভাল হয়!আমি এই পোস্টের মাধ্যমে জামাল ভাইর উয়াইফের দাবি উত্থাপন করলাম।আপনারা যারা একমত তারাও আওয়াজ দেন।এই ফাঁকে আরেকটা কোক খাইয়া লই।
একটি চা সন্ধ্যা এবং একজন গিটারিস্টের সন্ধানে - - - -
শাহজাহানপুর থেকে পোস্তগোলা খুব দূরের রাস্তা না।রাস্তা ফৃ থাকলে সময়ও বেশি লাগে না।কিন্তু আমি যাবো যাবো করেও যাই না।ভয়টা মূলত: সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীর ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম।মাইছ্যা বারবার করে বলছে- "ভাইজান নূতন দোকান দিলাম,একবারও আসলেন না।"মাইছ্যা'র ভাল নাম মাসূদ।আমাদের এলাকার খাজা রেস্টুরেন্টে মেসিয়ারের কাজ করত। আমাদের দোস্তগ্রুপের আড্ডার জায়গা ছিল খাজা রেস্টুরেন্ট।সাত/আট বছর ওখানে কাজ করার পর একদিন খবর দিল পোস্তগোলায় নিজের দোকান দিয়েছে।নানান ইতংবিতং শেষে গতকাল গেলাম মাইছ্যার দোকানে। মহানগর ষ্টীল মিলের পাশে মাইছ্যার ছোট একটা দোকান।টুলের উপর বসলাম।অলিম্পিক টিপ বিষ্কুটের নূতন একটা প্যাকেট দিল, সাথে গোয়ালীনি কনডেন্সড মিল্কের চা।মাইছ্যার সাথে নানান বিষয়ে কথা হয়,জানলাম-তার জন্য পাত্রী দেখা হচ্ছে।সর্বোচ্চ দরদাম - ২৪ইঞ্চি কালার টিভি,সাথে নগদ ৩০হাজার টাকা।মাইছ্যা একটা নকিয়া এন সিরিজের মোবাইলও চাইতেছে,এটা নিয়ে বারগেনিং চলতেছে। নকিয়া মোবাইলটা দিলেই মাইছ্যা কবুল বলে ফেলবে।মাইয়্যাও নাকি ধারে-ভারে দুই ভাবেই কাটবে।এই ধার-ভারের কথা বলার পর মাইছ্যা একটা শরমিন্দা হাসি দিল।কথা আর আগাল না,কারন - দুইটা ইয়ং ছেলে দোকানে এসে বসছে।আমি আরেক কাপ চা খাই।ঢাকা-মাওয়া রুটের যে বাসটা জ্যামে আঁটকে আছে,তার জানালায় বেগুনী জামা পরা এক তরুনীকে দেখা যাচ্ছে।আমি সে দিকে তাকিয়েই থাকি।: এত লাত্থি গুতার পরেও হালা ব্লগ ছারে না। কি সব ালের জুক্স ছাড়ে।: দুররো,আর কৈস না,হালা পুরা ফাউল।আমি মডারেটর হৈলে ওরে আইপিসুদ্ধ ব্লক মারতাম।আমি এইবার ছেলে দুইটার দিকে নজর দিই।ওদের কথায় কান পাতি।এরা কোন ব্লগের কথা বলে?কার কথা বলে?চোখ দুটা সেই বেগুনি জামার উপর রেখে কান রাখি তাদের আলাপালুচনায়।: অর ইরান যাওয়ার ঘঠনা জানোস তো?: ক্যা কি হৈসিল?: অ তো শিশু পাচারকারী টিমের খপ্পরে পড়ছিল।উটের জকি হিসাবে ইরান পাচার হৈছিল।ঐখানে ছিল ২ বছর।দেশে ফিরল,বড় হৈল।হেরপর সবাই হেরে ইরানি ডাকা শুরু করল।আর বলদাও জোর গলায় বলে-ইরান ভাল।: দোস্ত,তোদের মহল্লা বৈলা এখনো থাকতে পারে।আমগো এলাকা হৈলে তো কবেই লাত্থি দিয়া বাইর কইরা দিতাম।: হো হো।যা-ই কস, এরম কিছু ছাগল মহল্লায় থাকা দরকার।: ধুর।হালা ব্লগে ক্যামনে বলে - বাংলাদেশের চেয়ে ইরান ভাল?: এর লাইগা ধোলাই খাইছিল না?: হ।চুশমাটা দেখছস? ওয়ান পিচ।এইসব আলাপে আমার মাথায় টং টং করে হিট হয়।এরা কার কথা বলে?কোন ব্লগ?ইরান ভক্ত কে?মন চায় আরও ওদের আলাপ শুনি।মাইছ্যারে বললাম, চিনি কম দুধ বেশি আরেক কাপ চা দে।: অর হ্যান্ডিক্রাপ্ট না কি সব আবজাব আছে, ওগুলা কি অ বানাইসে?: তাইলে?: ক্যামরা নিয়া এদিক ওদিক ঘুরঘুর করে,শোপিচের দোকানে গিয়া ফটু তুলে,আর ব্লগে বলে - আমার নিজের কাজ।: কী কস? শালা ত পুরা টাউট।: খালি টাউট না, বাটপারও।ক্যামরাটার কথা কৈলাম,ঐটা চোরাই।: হৈতে পারে।: আরো ঘঠনা আছে।উটের খুরের পাড়া খেয়ে ওর ঠ্যাং দুইটা চ্যাপ্টা হৈসে ছোটবেলায়।এইটা ধামাচাপা দেয়ার লাইগ্যা কয় - মী বিগ ফিট।: হালারে রাস্তায় পাইলেই হৈসে, এমুন ধোলাই দিমু। ওর গিটারের তারমুর সব ছিড়্যা ফালামু।: অর গিটার আছে নাকি?: হো হো। তুই ত দেখি টিউব লাইট হয়া গেছস।: ওহহহহহহ। বুঝছি। হে হে হে হে হে হে।: হা হা হা হা হা হা হা হা হাসন্ধ্যা হয়ে আসতেছে।আমার বাসায় ফেরা দরকার।মাইছ্যার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। খালি বাস দেখে দৌড় দেয়ার আগ মুহুর্তে শুনলাম ছেলে দুটো বলছে: তোরেও ব্লক করছে?: হা হা, আমারেও।বাসের জানালা ভাঙা।ঠান্ডা বাতাস নাকে লাগছে।মাইছ্যার কথা ভেবে ভাল লাগল।নিজের চেষ্টায় মানুষ বড় হতে পারে,তার একটা উদাহরন।কিন্তু দোকানে আলাপরত ছেলে দু'টার কথা মাথা থেকে সরাতে পারলাম না।এতদিন ব্লগিং করি-অথচ চিনলাম না অরা কার কথা আলাপ করল? কে এমন নামকরা ইরানী গিটারিস্ট?
অ্যা স্যালুট টু শমসের আলম
তখন ব্লগের অস্থীর সময়। জামাত-শিবির-রাজাকার ; তাদের পা চাটা কুকুরের দলের আষ্ফালন, সাথে দিন রাত ছাগুদের ম্যাৎকার। সেই ক্রান্তিকালে অগ্নিপাতের মত বিস্ফোরিত হয় এক চরিত্র শমসের আলম। প্রোফাইলে এক দূরন্ত তরুণের ছবি, বোতাম খোলা লাল শার্ট পরা - কিছুটা ঘামে ভেজা; তবুও চেহারায় প্রদীপ্ত ছাপ। সুশীল ব্লগারের হাতে চুড়ি পরে নিরপেক্ষ সাজা ভংদের বিপরীতে সবার নজর কাড়ে শমসের আলম। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো, খারাপকে খারাপ, ছাগলকে ছাগল এবং রাজাকারকে প্রকাশ্যে সাহসের সঙ্গে রাজাকার বলার দূর্দম সাহস নিয়ে শমসের আলমের ব্লগিং এক্সপ্রেস। ভীষণ ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য, সাথে ছোট ছোট পোষ্ট মিলিয়ে শমসের আলম মানেই সাহসী এক ব্লগার। সে সময়কার বিবেচনাহীন মডারেশনের কারনে ব্যান হয়েছে কয়েকবার, শমসেরআলম, শমশের আলম, শমশেরআলম - এরকম বিভিন্ন নিকে ব্লগে লড়াই করে গেছেন। এরপর অবশেষে কোন এক অজানা কারনে ব্লগ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।শমসের আলম অনেকদিন ধরে ব্লগে অনুপস্থিত।মনিটরের হাফ সেঞ্চুরী পোস্টে শমসের আলমকে স্যালুট ।
ফেইক, ফেইক এইসব বেজন্মার বাচ্চাদের অভিশপ্ত জীবন
অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকি ব্লগ পাতায়। পড়ি এক কুলাঙ্গজেবের পোস্ট। দেখি ছবি, দেখি ছবির সাথের কথাগুলো। বাংলায় লেখা। বাংলা বর্ণমালায়।এ বর্ণমালা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি।এ বর্ণমালা অধিকার আদায়ের সংগ্রামের বর্ণমালা।সালাম-রফিক-বরকত-জব্বার। ২১ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২। তখন এই কুলাঙ্গজেবের দাদারা বলেছিল, উর্দূ হবে বাঙালীর ভাষা। কিংবা আরবী হরফে লেখা যায় বাংলা। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশের পর, বাঙলা হলো আমাদের ভাষা, বাঙালীর ভাষা । বাংলাদেশে থেকে কুলাঙ্গজেবের সন্তানেরাও বাংলায় কথা বলে। বাংলার ভাত খায়, মাছ খায়, বাতাসে নি:শ্বাস নেয়। আর মনে মনে অখন্ড পাকিস্তানের স্বপন দেখে।আসে একাত্তর। বেজন্মার বাচ্চারা থেমে থাকে না। আলবদর, আলশামস, রাজাকার বাহিনীর প্রদায়ক হয়ে পাক বাহিনীর পেনিস-সাকিং দালাল হয়ে যায়। কুত্তার বাচ্চাদের দালালীতে খুন হয় কিশোর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার বাবা, পরিবার। আর আমাদের আড়াই লক্ষ মা বোন। দু'শ ছেষট্টি দিন পেরিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। ছোট্র হাড়জিরজিড়ে অসহায় একটি দেশ। নরকের কীটগুলো তখন নালা-নর্দমায় লুকোয়। লুকিয়ে থাকে - - -এই লুকোনোর মাঝেও চলে তাদের প্রজনন, বংশবিস্তার ।বাড়ে বেজন্মার জাত । সময়ে প্রকাশিত হয় শুয়োরের বাচ্চাদের বিষদাঁত।হ্যাঁ, প্রকাশিত হয় সভা সমিতিতে।প্রকাশিত হয় পর্নো দৈনিকে, টিভি চ্যানেলে।কুত্তার বাচ্চারা টেকনোলজি শিখে ব্লগেও ভর করে।ইতিউতি সুযোগে বলে দেয়, একাত্তরে ৩০ লক্ষ না, অমুক কমিশন বলছে ২৬ হাজার মারা গেছে। চুতমারানিদের কেউ কেউ বিদেশে পড়ালেখা করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমাজ বিজ্ঞানের কিছু থিয়রীও মুখস্ত করে। তারপর ব্লগে লিখে, কেন কিছু লোক রাজাকার হয়েছিল। তেলাপোকার বাচ্চাগুলো যেমন জানে না কোন বাপের বীর্যে ওদের জন্ম, তবুও কাগজে একটা বাপের নাম লিখে, ঠিক তেমনি করে লিখে ফেলে একাত্তর ভুলে যাও।এইসব বেজন্মার বাচ্চাদেরই একজন কুলাঙ্গারজেব আজ ব্লগে ৭১ সময়কালীন কুকুরে খাওয়া শিশুর লাশের ছবি দিল, বললো - এটা ফেইক ছবি। কম্পিউটারে এডিট করা।একাত্তরে পুড়ে গেছে ঘর, মরেছে স্বজন; এসব ব্যক্তিগত অনুভূতি ভীষণ স্তব্ধ হয়ে থাকে। আমার চোখ কম্পিউটারের পর্দায় তাকিয়ে থাকে। বাংলা ব্লগ, বাংলা ভাষা, বাংলা বর্ণমালায় নরকের কীটের জারজ সন্তানেরা আজ আজ বলে দিচ্ছে, সব ফেইক।হারামজাদারা ভুলে যায়, পিতৃ পরিচয়হীন বিভ্রান্ত ওদের জন্মটাই কেবল ফেইক। ওদের কুলাঙ্গার পিতা ফেইক, ওদের পরিত্যক্ত মাতা ফেইক। বেজন্মাদের পিতামাতার যে সংগমে কুলাঙ্গারের জন্ম, সে সংগম ফেইক। ফেইক সব কুলাঙ্গজেব।নিরঙ্কুশ সত্য ১৯৭১, বাংলার এবং বাঙালীর।
বন্ধ হোক এ উস্কানি উন্মাদনা, ব্লগিং হোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ
দেবী দূর্গার ছবি নিয়ে চমৎকার ব্যানারের জন্য ডিজাইনার ও বিবিএ টীমকে অভিনন্দন।বাংলা ব্লগিংয়ে সামহয়্যার এক পথিকৃৎ,এখনো পর্যন্ত সবচে বড় প্লাটফরম এ সাইট।রাস্ট্র-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে জায়গা করে দিচ্ছে।ভাবনার প্রকাশ ঘটছে চমতকার ভাবে।মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মডারেশন নিয়ে বিগত অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমৃদ্ধ করেছে।ব্লগাররাও পেয়েছে ভালো পরিবেশ।টেকনোলজির উন্নয়নে সাইবার সমাজ বিস্তৃতী লাভ করছে দিনদিন।অনলাইন আচরনে প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক বাস্তবতা।ব্যক্তি অথবা সামাজিক জীবনে মানুষ কি গ্রহন করবে না করবে সেটা অনেকটা রাস্ট্র এবং সামাজিক চর্চা ঠিক করে।মানুষের মনন-বিকাশ একদিনের ব্যাপার নয়।তার সামাজিক,পারিবারিক ও রাস্ট্রিক প্রভাবে তার পারিপার্শ্বিক আচরন গঠিত হয়।আর্থসামাজিক অবকাঠামো অনুযায়ী কোনটি দ্বারা বেশি প্রভাবিত হবে তা নির্ধারিত হয়।মানুষ হয়তো সব আইনের অধিনে থাকতে চায় না,স্বাধীন থাকতে পছন্দ করে, এখানেই সিভিক্সের আইন বনাম স্বাধীকার বিতর্ক চলে আসে।গনতন্ত্রের বাই দ্য পিপল কনসেপ্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সব নির্ধারন করবে কিনা সেটা বড় ব্যাপার।ব্যক্তি আচরন ভার্চুয়াল আচরনকে প্রভাবিত করতেও পারে নাও পারে।ব্লগিংয়ের কথা ধরি,যে কবি কবিতা লিখে ব্লগিং করে তার জীবন কবিতা নয়,তাকেও ভাত খেতে হয়, কাজ করতে হয়, হাসতে হয়, কাঁদতে হয়।যে সব সময় ভাল সেজে সাইবার সমাজে বিবেক সাজে সেও অসাবধানে ম্যালফাংশন করে নিজের কুৎসিত দিক প্রকাশ করে।পারস্পরিক সহনশীলতার প্রসংগে নজর দিই।বাংলাদেশ মোটামুটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেশ।এখানে আজানের শব্দ আর শংখের আওয়াজে চৌধুরী বাড়ী আর সাহা পরিবারের মানুষগুলো একাকার হয়।ধর্মকে সাথে রেখেও যুগযুগ ধরে তারা এক সাথে থাকে।কেবল কিছু ধর্মান্ধ উস্কানি দিয়ে বিভেদের চেষ্টা করে,কখনো সফলও হয়তো হয়।চলমান সময়ে পূজা নিয়ে সামহয়ার চমৎকার একটি ব্যানার করেছে।প্রতিবেশি ব্লগ সাইটগুলোয় এমন চমৎকার কাজ চোখে পড়েনি।কোনদিন বাংলা ব্লগিংয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতীর কথা লেখা হলে এ ঘঠনাটি উজ্জ্বলভাবে উল্লেখ হবে।এরপরও আমরা দেখি - ধর্মান্ধতার প্রকাশ।এমন ব্যানারের প্রতিবাদ।মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে ব্যানার সরানোর দাবি উঠেছে।এটা সত্যি, বাংলাদেশ ইসলামগরিষ্ঠ দেশ এবং মুর্তিপূজা ইসলামে হারাম।তাই বলে কি দেশে পূজা নিষিদ্ধ?কেউ কি পূজার প্রতিবাদ করছেগুটিকয় কীট-পতঙ্গ করার ইচ্ছা থাকলেও পারছে না, কারণ রাষ্ট্রের আইন ও অবস্থানে এমন উন্মাদনা সম্ভব না।এ ব্লগের নীতি নির্ধারক সামহয়ার কর্তৃপক্ষকে এখন চালকের আসনে বসতে হবে।ব্লগে যারা এরকম উন্মাদনা ছড়াচ্ছে তাদের বোঝাতে হবে,ব্লগ কোনো তালেবানী সংগঠন নয়।এটা ঠিক এ মুহুর্তেই দরকার।এ উস্কানি - উন্মাদনার সাময়িক প্রশ্রয় আগামিতে হয়তো আরো বড় দাঙ্গা ছড়াবে,এটা অনুমানে কষ্ট হয় না।তাই দাবী- বন্ধ হোক এ উস্কানি উন্মাদনা, ব্লগিং হোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ ।হ্যাপি ব্লগিং।
সা. ইন ব্লগারদের সাথে ঈদ - আলাম ভাইয়ের বাসায় আমাদের গেট-টুগেদার
আগেই বলা ছিল,ঈদের বিকালে আলাম ভাইর বাসায় যাব।ব্লগে আমাকে কিছু বলেন নাই।কিন্তু মাথামোটা বললো,কনফার্ম করা আছে।সমস্যা নাই।ঈদের জামাতে নাকি মাথামোটার সাথে কোলাকুলি হয়েছে। মাথামোটার পাশের বাসায় থাকে হাসিব। হাসিব আর মাথামোটা একসাথে যাবে, আমি আরণ্যক যাযাবরকে তিলপাপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে তুলে নিব। ঈদের বিকালে দেখি বেশির ভাগ পেট্রল পাম্প বন্ধ। আমার মোটরসাইকেলের ফুয়েল শেষের দিকে। কমলাপুরে একটা পাইলাম। খিলগাঁও গিয়া দেখি যাযাবর অপেক্ষা করতেসে। মাথামোটার দেয়া লোকেশন ধরে রওনা দিলাম,বৃষ্টি হওয়ায় পানি জমা রাস্তা।ঈদের বিকালে অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে রিক্সা করে ঘুরতে বাইরাসে।যাযাবর ডানে-বামে নড়াচড়া করে সব দেখে।শেষে গেলাম আলাম ভাইয়ের বাসায়।গেটে দাড়ায়ে আছে হাসিব আর মাথামোটা।সংস্থাপক আসবে না,বাংলাভিশনে 'মনের মাঝে তুমি' দেখবে। মুযতবা বিজি,আগেই বলসে - টাইম নাই। উদাসী স্বপ্নও জুনাকির সাথে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাবে। মানুষ-এর লগে যোগাযোগ হয় নাই।তুষার০০৭ এর মোবাইল অফ। এরা আসবো না। বাকী থাকল - অচেনা বাঙালি। শেষে দেখলাম হেলেদুলে অচেনাও আসলো।ভীষণ স্মার্ট মানুষ।শেষে আমরা ৫জন গিয়ে কলিংবেল চাপলাম।আলাম ভাইর ছবি ইন্টারনেটে দেখেছি। বিশেষ করে চশমাটা চেনা। দর্জা খুলে আলাম ভাইর চোখ ছানাবড়া।চশমা খুলে বলে - আপনারা কারা? অচেনা বিশাল এক সালাম দিয়ে গলা জরিয়ে ধরল। ঈদের কোলাকুলি। আমরা নাম বললাম, আলাম ভাই বেশ অবাক। ভেতরের ঘরে বসলাম। বিটিভি-তে রিয়াজের সিনেমা চলছে, নাঈকা শাবনুর। বুঝলাম - আলাম ভাই কেন সবাইকে ঈদের দিন বিটিভি দেখতে বলছিল।আমরা বসে আছি। দেয়ালে ইরানের বড় ম্যাপ। খুমেনির ছবি, খেজুর গাছের ছবি। অচেনা বাঙালি টিভির চ্যানেল পাল্টায়ে দিল। সনি টিভিতে শাহরুখ খানের ইয়েস বস, চ্যানেল আইতে বাচ্ছাদের অনুষ্ঠান। আলাম ভাই অস্তির হয়ে গেল। কি খাবেন? কার কি পসন্দ? মাথামোটা বলল - সিমাই খাব, আলাউদ্দিনের লাচছি সিমাই। আলাম ভাই রান্নাঘড়ে গেল। একটু পর সিমাই নিয়ে আসল। অচেনা বাঙালি সিমাই মুখে দিয়েই ফেলে দিল, এটা আলাউদদিনের সিমাই না, বনফুলের সিমাই। আলাম ভাই আবার চশমা চোখে দিল, বলল - ভাই খাইলে খান, তেরিবেরি করলে ব্লক করে দেব।এবার যাযাবর বলল - আলাম ভাই/ সত্য করে বলেন তো - আপনে ক'জনরে ব্লক করছেন?আলাম ভাই: ৫০ জনের উপরেঅচেনা: কন কি? ৫০ জন?আলাম ভাই: হ, দাড়ান লগইন করি।দেখবেন।আমরা দেখলাম - ৫৪জন ব্লকড।আমরা সবাই ব্লকড। ডাক্তার সাবের ২০টা নিক ব্লকড।এরপর আলাম ভাইয়ের সাতে গল্প হয়। উনার হ্যান্ডিক্রাফট দেখটে চাইল - মাথামোটা। আলাম ভাই বলল - ওগুলা কোথায় নাকি এক্সিবিশনে গেসে।যাযাবর বলল - একটাও নাই?আলাম ভাই: না,একটাও নাই।অচেনা বাঙালি বলল-তাইলে আপনার পিচ্ছিবেলার ছবি গুলা দেখান। আলাম ভাই চৌকির তলার ট্রাংক থেকে একটা ফাইল বের করল।দেখলাম, ম্যারিডিয়ান চিপসের সাথে দেয়া ফৃকার্টুন গুলা ছাপ দিয়ে আকা, চোরাই টেকনিক। যাযাবর ধরে ফেললে, আলাম ভাই দুম করে সব কেড়ে নিয়ে সব ট্রাংকে ঢুকায়ে ফেলল। বলল - আপনেরা আমারে ব্লগে শান্তি দেননা,এখন বাসায় এসেও জালাইতেসেন?হাসিব গিয়ে আলাম ভাইয়ের মাথায় হাত বুলাল - ভাইটু রাগ কইরেন না। ছবি আকা থাক।আপনার মজার কৌতুক কালকশন নিয়া বলেন,আমরা খুভ মজা পাই।আলাম ভাই কিছুটা শান্ত হল। তোষকের নিচ থেকে একটা ছোট বই বার করল, ১০০টি মজার কৌতুক।আলাম ভাই নাকি এখান থেকে টাইপ করেন। অচেনা বাঙলি একটা একটা কৌতুক পড়ে/কিন্তু আমরা কেউ হাসি না।আলাম ভাইয়ের মুখটা গোমড়া হয়ে আছে।হাসিব বলল - এই,সবাই হাসবা।কৌতোক শুনলে হাসতে হয় কেউ জান না?এরপর একটা কৈতুক এরকম -১ম লোক: ভাই আপনি কি শুক্রবারে বাসায় থাকেন?২য় লোক: না আমি অফিসে থাকি১ম লোক: কেন?২য় লোক: ব্লগিং করি।কৌতুক শেষ।আমরা কেউ হাসি না। আলাম ভাই হাসতে হাসতে দলাদলা। বলল - এটা আমি কালকেই দেব ভাবতেসিলাম।আলাম ভাইর হাসি থামে না। হাসিব ইশারা দিল - হাসতে থাক।তারপরে আমরা হো হোহ োহা হা হা করে হাসি। হাসির শব্দ থামেনা। হঠাত দেখি মাথামোটা নাই।কৈ গেল?খাটের অন্যপাশের তোষকের নিচ থেকে একটা বই বাইর করে মাথামোটা পড়তেছে।যাযাবর গিয়ে বইটা টান মেরে নিয়া নিল। বইয়ের নাম - 'বড়মনিদের রাতের গল্প"। মলাটে একটা নেংটা ছবি।আলাম ভাই দৌড় দিয়ে বইটা কেড়ে নিল।রেগে গেল।আলাম ভাই: আপনারা আমার প্রাইভেসিতে হাত দিসেন।মাথামোটা: অসুবিদা কি?আলাম ভাই: আপনে না বলে নিলেন কেন?ঘরের মধ্যে মহা হাতাহাতি। আরণ্যক গেল থামাইতে।বলল/ আলাম ভাই,মাথা ঠান্ডা করেন।আসেন আমরা কোরেল নিয়ে আলাপ করি।এরপর তারা কোরেল ড্র নাকি কোরাল মাছ নিয়ে আলাপ করল।আলাম ভাই একটা ডায়েরি বাইর করল,ওখানে লেখা কতজনকে কি কি কারনে ব্লক করা হয়েছে। আমি দেখলাম/আমার নামের সাথে লেখা - ইরান যাওয়া নিয়ে ফাজলামি করছে ৩বার।আমি: আলাম ভাই আমাকে আনব্লক করবেন না?আলাম ভাই: আপনি আমাকে অপমান করসেন কেন?আমি: কখন অপমান করলাম।আপনার ইরান যাবার টিকিট ভিসা হৈসে কিনা জিগাইলাম।আলাম ভাই: হ, আমি থাকব না/ইরান চলে যাব।বাংলাদেসের মানুষ ভাল না।ইরানের লোক কথা দিয়ে কথা রাখে।।আমি: ভাই, মাফ করে দেয়া যায় না।ক্ষেমা করা দেন।তবুও আনব্লক করেন।আলাম ভাই: আপনে আমাকে নিয়ে ছড়া লিখসেন কেন?আমার চোখ লাল? আমার চোখ ত কাল।হাসিব: আলাম ভাই আপনার চুশমাটা কুন দুকান থেকে কিনসেন?আলাম ভাই: চশমা নিয়ে মশকরা করবেন না।এটা আমার স্টায়েল।হাসিব: আমারে দেন নাইলে কন, কুন দুকান থেকে কিনসেন?আলাম ভাই: এইটা গুলিস্তানে টুকাই পাইসি।এইসব আলাপে দেখি অচেনা বাঙালি বারান্ডায় দাড়িয়ে, খাঁচার মধ্যে চড়ুই পাখি নিয়ে গুতাগুতি করসে। আমি: আলাম ভাই, চড়ুই নিকটা কি আপনার?আলাম ভাই চুপপচাপ।আমি: আপনার পেজে লিংকও আছে। কালকে মুজতবাও পোস্ট দিল।আলাম ভাই: মুজতবা পুরা বেয়াদব পোলা,সারাদিন বেয়াদবি করে।আমি: কি বলেন? ও টিনএজ ছেলে,আমাদের ছোট ভাই।আলাম ভাই: মুজতবা আমার ১ম পোস্টে আমাকে গুড়ে মলম ডাকসে,কোন কারন ছারা।অচেনা বাঙালি: দুররো আলাম ভাই, মুজতবা বাচ্চা ছেলে,আপনি ওর সাথে ভাল ব্যাবহার করেন,ও সম্মান করবে।এরম আড্ডায় সন্ধ্যা হয়ে আসল।আরণ্যাক যাযাবর বলল - আলাম ভাই/আপনার একটা পুস্ট পরছিলাম-আপনি ভাল রান্না করেন। আজকে আমরা সবাই মিলে রান্না করব।একত্রে খাব।আলাম ভাই মনে হয় রাগ করল। বলল - ফ্রিজে কিছু ছোলাবুট আছে কালকের ইফতারের,ওটা ডিম মাখিয়ে ভাজি করি?যাযাবর রাজি হল না।যাযাবর: খিদা লাগসে ভাত খাব। নাজির শাইল চাইলের ভাত।আলাম ভাই: আপনাদের এইটা ব্যাড হেবিট। নাজিরুল ভাই ভাল লোক,উনারে নাজিরশাইল বলেন কেন?যাযাবর: আচ্চা ভাই/আর বলব না।কালকে রাতে নাজিরশইলের সাথে মিটমাট হইসে।একে অপরকে ঈদ মুবারাক বলসি।আলাম ভাই: আচ্ছা/ঠিকাসে।অচেনা বাঙালি: সাথে আইটেম কি?আলাম ভাই: বেজির মাংশ।অচেনা বাঙালি: ওয়াক, বেজির মাংশ কে খায়?আলাম ভাই: ঠাট্টা করলাম, উটের মাংশ আছে আর ছাগলের মাংশ আছে।কোনটা খাবেন?হাসিব: ছাগলের মাংশ কোন দেশি? ইরানি?আলাম ভাই: ইরানি মাংশ ২৭ রোজার রাতে শেষ।এখন আছে ট্রাইয়াংগুলার ছাগলের মাংশ,মোহম্মদপুর বাজার থেকে কিনসিলাম।যাযাবর: এটা আবার কেমন ছাগল?খাসি না পাঁঠা?আলাম ভাই: মালিক বলল কালকেই নাকি ছাগলটার বছরপুর্তি হইসে, আর পাললে মাংশ শক্ত হয়ে যাইব,তাই বিকৃ করে দিল।আমি কিনলাম ৩ কেজি।আলাম ভাই রান্না করল। এরমাঝে আমরা ইরানি খুরমা খেলাম।জামাতে এশারের নামাজ পরলাম। শেষে খাওয়া দাওয়া। হঠাত মুজতবার ফুন - 'ভাইয়া তোমরা কোথায়,আমি আসতেসি'।আলাম ভাই সাথে সাথে আমাদের পায়ে ধরে বসল - আলাম ভাই: ভাই/মাফ চাই,ঐ ইবলিশটারে আমার বাসায় আইনেন না।হাসিব: আসুক না ক্ষতি কি?আলাম ভাই: মুজতবা আমারে জুতাবে বলসে।ওর চেহারা দেখলেও ভয় লাগে।আমি ক্ষমা চাই।আরণ্যক যাযাবর: তাইলে উদাসীরে ডাকি?আলাম ভাই: আপনেরা যা বলবেন তা হবে/আমারে জালাইয়েন না খালি।তখন মাথামোটা আরেক চামচ ভাত নিয়ে বলেমাথামোটা: বেজি আলাম, আমারে ঝোল দে। আর একটা লেবু কেটে আন।হাসিব: যা বলব তা করবি?আলাম ভাই: হ করব, আপনাগো সবাইরে আনব্লক করব। খালি আমারে গুতাইয়েন না।খাওয়া শেষ হল।আমরা চলে আসব। তখনহাসিব: আলাম, তুমার চশমাটা আমারে দাও ত।আলাম ভাই: (কান্না শুরু করে) ঐটা না নিলে হয় না>হাসিব: দিবি ? নাকি থাপ্পড় খাবি?আলাম ভাই: নেন, চুশমা নেন। (কান্না করে, আমার চুশমা নিয়ে গেল রে)আমি: আমারে কিসু দিবানা আলাম ভাই?আলাম ভাই: নেন,আপনেরে আমার চড়ুই পাখি দিলাম, খালি মুজতবারে আপনি সামলাইয়েন।যাযাবর: আালাম ভাই, তুমার কোরেল এর সিডিটা আমারে দাও, সাথে জুকসের বইটা।আলাম ভাই: আপনেরা ত সব নিয়ে যাবেন!!!!!!বাঙালি অচেনা: আমি ত কিসু নিই নাই এখনও।আলাম ভাই: আপনি আবার কি নিবেন?বাংগালি অচেনা: ওয়াদা নিলাম, কালকে সকালে সবাইরে যেন আনব্লক দিখি, নইলে উদু আর জুনাকিরে তুমার বাসার ঠিকানা কয়া দিমু।আলাম ভাই: হ বাই, আনব্লক করমু।আপনি উদুরে সামলান।মাথামোটা তখনও বসে আছে।আলাম ভাইকে বললমাথামোটা: আমারে ঐটা দাওআলাম ভাই: কি?মাথামোটা : ঐ যে ঐটা।আলাম ভাই: কোনটা?এরপর মাথামোটা কানে কানে আলাম ভাইকে কি জানি বলল।আলাম ভাই ভিতরে গিয়ে মোটা একটা বই নিয়ে আসলো, নাম - 'রসময়গুপ্ত সমগ্র (অখন্ড)।মাথামোটা মাথা ঝুকিয়ে হাসি দিল।আলাম ভাই বললআলাম ভাই: আপনে কিন্তু আমারে নিয়া আলাদা পোস্ট দিবেননা আর,আমার অপমান হয়।মাথামোটা: তুমি ব্লগে ঠিকমত থাকবা,তাইলে আমরাও জালামু না।বাসার গেট থেকে বের হইয়ে এলাম।আলাম ভাই গান গাইছে - 'লুট গ্যায়া সব, লুট গ্যায়া - - -"বাসায় আসার পরে মুজতবা আবার ফোন করল, মুজতবা: ভাইয়া,তুমরা কি কি মজা করলা আমাকে বলবা নাআমি: সেটা ত অনেক বড় গল্পমুজতবা: তাইলে আলাদা পুস্ট দিও।আমি: আইচ্ছা দিমু। এখনই দিতাসি।এই হইলো কাহিনী।
মৃত্যুতেই ক্ষমা - অপেক্ষায় থাকো আরিফুর রহমান
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ২:৪২
অন্যায়টা অনেক বড় হয়ে গেছে। মারাত্মক অন্যায় করেছ তুমি। কার্টুন একে আঘাত করেছ - 'ইসলামপ্রেমী' মুমিন জনতাকে। ক্ষেপে উঠেছিল বায়তুল মোকাররমের রাস্তা। ইসলামী জোশে লাল কালো ব্যানার নিয়ে দেশের ইসলামী চৌকিদাররা তেড়ে গিয়েছিল ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিন্যুতে। সাফ ফোয়ারার মোড়ে কবি নজরুলের অসহায় মুখ কেবলই টাইলস মোড়ানো দেয়াল। সাম্যের কবি নজরুল বেঁচে থাকলে কী করতেন জানি না।প্রগতিশীল মতিউর রহমান তখন পাঞ্জাবী পরে ইসলামী সাজ নিয়ে দু'হাত জোড় দিয়ে ক্ষমা চাইল। বেকার হলো সুমন্ত আসলাম। হয়তো আখেরে ওর লাভই হলো। সামনের বইমেলায় ওর বই আরো হিট হবে, কাটতি বাড়বে। শান্তিনিকেতনী শাল পরে সুমন্ত অটোগ্রাফ দিবে কলেজ পড়ুয়া কিশোরীকে। এইভাবে দিন কেটে যাবে।তোমার দিন কাটে কিভাবে আরিফ? সেদিনের পর থেকে কোন খবর জানেনি দেশের মানুষ। মতি কিংবা সুমন্তরা চুপচাপ। শিশির বিপুল শান্তরা এখন শান্ত ছেলে। তুমি যাদের হাত থেকে সেরা কার্টুনিস্টের পুরস্কার নিয়েছিলে ওরা আবার কনটেস্ট আয়োজন করেছে। জেনে রেখো - ওগুলো শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। চৌধুরীরা তোমার জন্য কিছুই করবে না।আমিও না।রোজার মাসে ইফতারীর নামে গিলে যাচ্ছি বাহারী সব খাবার। মুখে গন্ধ, চেহারায় ক্লান্তি নিয়ে সুশীল সমাজের এক অংশ। পারিনা জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে তোমার মুক্তির দাবীতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিতে। আমি পারি না। কারন, আমি স্বার্থপর, আমি লোভী, আমি অপরচুনিস্ট। আমি ঝাঁকের কৈ। আজ আমি অনেক লোকের সাথে জাতীয় মসজিদের খতিবের জানাযায় অংশ নেবো। দু'হাত তুলে বলবো - পরম করুনাময়, তুমি হুজুরকে ক্ষমা করে দাও।আরিফ, পরমকরুনাময় হয়তো তোমাকেও ক্ষমা করবে। কিন্তু ক্ষমা করবে না এই নস্টের অধিকারে যাওয়া সমাজ, বিচার ব্যবস্থা। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৬০। অপেক্ষায় থাকো আরো ৩৫/৪০ বছর। তুমিও ক্ষমা পাবে মৃত্যুর পরে। পৃথিবীর ইশ্বরেরা হাত তুলে বলবে, আরিফকে ক্ষমা করে দাও। আজ বলে রাখি - সে জানাযায় আমি যাবো না।
অন্যায়টা অনেক বড় হয়ে গেছে। মারাত্মক অন্যায় করেছ তুমি। কার্টুন একে আঘাত করেছ - 'ইসলামপ্রেমী' মুমিন জনতাকে। ক্ষেপে উঠেছিল বায়তুল মোকাররমের রাস্তা। ইসলামী জোশে লাল কালো ব্যানার নিয়ে দেশের ইসলামী চৌকিদাররা তেড়ে গিয়েছিল ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিন্যুতে। সাফ ফোয়ারার মোড়ে কবি নজরুলের অসহায় মুখ কেবলই টাইলস মোড়ানো দেয়াল। সাম্যের কবি নজরুল বেঁচে থাকলে কী করতেন জানি না।প্রগতিশীল মতিউর রহমান তখন পাঞ্জাবী পরে ইসলামী সাজ নিয়ে দু'হাত জোড় দিয়ে ক্ষমা চাইল। বেকার হলো সুমন্ত আসলাম। হয়তো আখেরে ওর লাভই হলো। সামনের বইমেলায় ওর বই আরো হিট হবে, কাটতি বাড়বে। শান্তিনিকেতনী শাল পরে সুমন্ত অটোগ্রাফ দিবে কলেজ পড়ুয়া কিশোরীকে। এইভাবে দিন কেটে যাবে।তোমার দিন কাটে কিভাবে আরিফ? সেদিনের পর থেকে কোন খবর জানেনি দেশের মানুষ। মতি কিংবা সুমন্তরা চুপচাপ। শিশির বিপুল শান্তরা এখন শান্ত ছেলে। তুমি যাদের হাত থেকে সেরা কার্টুনিস্টের পুরস্কার নিয়েছিলে ওরা আবার কনটেস্ট আয়োজন করেছে। জেনে রেখো - ওগুলো শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। চৌধুরীরা তোমার জন্য কিছুই করবে না।আমিও না।রোজার মাসে ইফতারীর নামে গিলে যাচ্ছি বাহারী সব খাবার। মুখে গন্ধ, চেহারায় ক্লান্তি নিয়ে সুশীল সমাজের এক অংশ। পারিনা জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে তোমার মুক্তির দাবীতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিতে। আমি পারি না। কারন, আমি স্বার্থপর, আমি লোভী, আমি অপরচুনিস্ট। আমি ঝাঁকের কৈ। আজ আমি অনেক লোকের সাথে জাতীয় মসজিদের খতিবের জানাযায় অংশ নেবো। দু'হাত তুলে বলবো - পরম করুনাময়, তুমি হুজুরকে ক্ষমা করে দাও।আরিফ, পরমকরুনাময় হয়তো তোমাকেও ক্ষমা করবে। কিন্তু ক্ষমা করবে না এই নস্টের অধিকারে যাওয়া সমাজ, বিচার ব্যবস্থা। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৬০। অপেক্ষায় থাকো আরো ৩৫/৪০ বছর। তুমিও ক্ষমা পাবে মৃত্যুর পরে। পৃথিবীর ইশ্বরেরা হাত তুলে বলবে, আরিফকে ক্ষমা করে দাও। আজ বলে রাখি - সে জানাযায় আমি যাবো না।
Subscribe to:
Posts (Atom)