Sunday, February 17, 2008
সা. ইন ব্লগারদের সাথে ঈদ - আলাম ভাইয়ের বাসায় আমাদের গেট-টুগেদার
আগেই বলা ছিল,ঈদের বিকালে আলাম ভাইর বাসায় যাব।ব্লগে আমাকে কিছু বলেন নাই।কিন্তু মাথামোটা বললো,কনফার্ম করা আছে।সমস্যা নাই।ঈদের জামাতে নাকি মাথামোটার সাথে কোলাকুলি হয়েছে। মাথামোটার পাশের বাসায় থাকে হাসিব। হাসিব আর মাথামোটা একসাথে যাবে, আমি আরণ্যক যাযাবরকে তিলপাপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে তুলে নিব। ঈদের বিকালে দেখি বেশির ভাগ পেট্রল পাম্প বন্ধ। আমার মোটরসাইকেলের ফুয়েল শেষের দিকে। কমলাপুরে একটা পাইলাম। খিলগাঁও গিয়া দেখি যাযাবর অপেক্ষা করতেসে। মাথামোটার দেয়া লোকেশন ধরে রওনা দিলাম,বৃষ্টি হওয়ায় পানি জমা রাস্তা।ঈদের বিকালে অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে রিক্সা করে ঘুরতে বাইরাসে।যাযাবর ডানে-বামে নড়াচড়া করে সব দেখে।শেষে গেলাম আলাম ভাইয়ের বাসায়।গেটে দাড়ায়ে আছে হাসিব আর মাথামোটা।সংস্থাপক আসবে না,বাংলাভিশনে 'মনের মাঝে তুমি' দেখবে। মুযতবা বিজি,আগেই বলসে - টাইম নাই। উদাসী স্বপ্নও জুনাকির সাথে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাবে। মানুষ-এর লগে যোগাযোগ হয় নাই।তুষার০০৭ এর মোবাইল অফ। এরা আসবো না। বাকী থাকল - অচেনা বাঙালি। শেষে দেখলাম হেলেদুলে অচেনাও আসলো।ভীষণ স্মার্ট মানুষ।শেষে আমরা ৫জন গিয়ে কলিংবেল চাপলাম।আলাম ভাইর ছবি ইন্টারনেটে দেখেছি। বিশেষ করে চশমাটা চেনা। দর্জা খুলে আলাম ভাইর চোখ ছানাবড়া।চশমা খুলে বলে - আপনারা কারা? অচেনা বিশাল এক সালাম দিয়ে গলা জরিয়ে ধরল। ঈদের কোলাকুলি। আমরা নাম বললাম, আলাম ভাই বেশ অবাক। ভেতরের ঘরে বসলাম। বিটিভি-তে রিয়াজের সিনেমা চলছে, নাঈকা শাবনুর। বুঝলাম - আলাম ভাই কেন সবাইকে ঈদের দিন বিটিভি দেখতে বলছিল।আমরা বসে আছি। দেয়ালে ইরানের বড় ম্যাপ। খুমেনির ছবি, খেজুর গাছের ছবি। অচেনা বাঙালি টিভির চ্যানেল পাল্টায়ে দিল। সনি টিভিতে শাহরুখ খানের ইয়েস বস, চ্যানেল আইতে বাচ্ছাদের অনুষ্ঠান। আলাম ভাই অস্তির হয়ে গেল। কি খাবেন? কার কি পসন্দ? মাথামোটা বলল - সিমাই খাব, আলাউদ্দিনের লাচছি সিমাই। আলাম ভাই রান্নাঘড়ে গেল। একটু পর সিমাই নিয়ে আসল। অচেনা বাঙালি সিমাই মুখে দিয়েই ফেলে দিল, এটা আলাউদদিনের সিমাই না, বনফুলের সিমাই। আলাম ভাই আবার চশমা চোখে দিল, বলল - ভাই খাইলে খান, তেরিবেরি করলে ব্লক করে দেব।এবার যাযাবর বলল - আলাম ভাই/ সত্য করে বলেন তো - আপনে ক'জনরে ব্লক করছেন?আলাম ভাই: ৫০ জনের উপরেঅচেনা: কন কি? ৫০ জন?আলাম ভাই: হ, দাড়ান লগইন করি।দেখবেন।আমরা দেখলাম - ৫৪জন ব্লকড।আমরা সবাই ব্লকড। ডাক্তার সাবের ২০টা নিক ব্লকড।এরপর আলাম ভাইয়ের সাতে গল্প হয়। উনার হ্যান্ডিক্রাফট দেখটে চাইল - মাথামোটা। আলাম ভাই বলল - ওগুলা কোথায় নাকি এক্সিবিশনে গেসে।যাযাবর বলল - একটাও নাই?আলাম ভাই: না,একটাও নাই।অচেনা বাঙালি বলল-তাইলে আপনার পিচ্ছিবেলার ছবি গুলা দেখান। আলাম ভাই চৌকির তলার ট্রাংক থেকে একটা ফাইল বের করল।দেখলাম, ম্যারিডিয়ান চিপসের সাথে দেয়া ফৃকার্টুন গুলা ছাপ দিয়ে আকা, চোরাই টেকনিক। যাযাবর ধরে ফেললে, আলাম ভাই দুম করে সব কেড়ে নিয়ে সব ট্রাংকে ঢুকায়ে ফেলল। বলল - আপনেরা আমারে ব্লগে শান্তি দেননা,এখন বাসায় এসেও জালাইতেসেন?হাসিব গিয়ে আলাম ভাইয়ের মাথায় হাত বুলাল - ভাইটু রাগ কইরেন না। ছবি আকা থাক।আপনার মজার কৌতুক কালকশন নিয়া বলেন,আমরা খুভ মজা পাই।আলাম ভাই কিছুটা শান্ত হল। তোষকের নিচ থেকে একটা ছোট বই বার করল, ১০০টি মজার কৌতুক।আলাম ভাই নাকি এখান থেকে টাইপ করেন। অচেনা বাঙলি একটা একটা কৌতুক পড়ে/কিন্তু আমরা কেউ হাসি না।আলাম ভাইয়ের মুখটা গোমড়া হয়ে আছে।হাসিব বলল - এই,সবাই হাসবা।কৌতোক শুনলে হাসতে হয় কেউ জান না?এরপর একটা কৈতুক এরকম -১ম লোক: ভাই আপনি কি শুক্রবারে বাসায় থাকেন?২য় লোক: না আমি অফিসে থাকি১ম লোক: কেন?২য় লোক: ব্লগিং করি।কৌতুক শেষ।আমরা কেউ হাসি না। আলাম ভাই হাসতে হাসতে দলাদলা। বলল - এটা আমি কালকেই দেব ভাবতেসিলাম।আলাম ভাইর হাসি থামে না। হাসিব ইশারা দিল - হাসতে থাক।তারপরে আমরা হো হোহ োহা হা হা করে হাসি। হাসির শব্দ থামেনা। হঠাত দেখি মাথামোটা নাই।কৈ গেল?খাটের অন্যপাশের তোষকের নিচ থেকে একটা বই বাইর করে মাথামোটা পড়তেছে।যাযাবর গিয়ে বইটা টান মেরে নিয়া নিল। বইয়ের নাম - 'বড়মনিদের রাতের গল্প"। মলাটে একটা নেংটা ছবি।আলাম ভাই দৌড় দিয়ে বইটা কেড়ে নিল।রেগে গেল।আলাম ভাই: আপনারা আমার প্রাইভেসিতে হাত দিসেন।মাথামোটা: অসুবিদা কি?আলাম ভাই: আপনে না বলে নিলেন কেন?ঘরের মধ্যে মহা হাতাহাতি। আরণ্যক গেল থামাইতে।বলল/ আলাম ভাই,মাথা ঠান্ডা করেন।আসেন আমরা কোরেল নিয়ে আলাপ করি।এরপর তারা কোরেল ড্র নাকি কোরাল মাছ নিয়ে আলাপ করল।আলাম ভাই একটা ডায়েরি বাইর করল,ওখানে লেখা কতজনকে কি কি কারনে ব্লক করা হয়েছে। আমি দেখলাম/আমার নামের সাথে লেখা - ইরান যাওয়া নিয়ে ফাজলামি করছে ৩বার।আমি: আলাম ভাই আমাকে আনব্লক করবেন না?আলাম ভাই: আপনি আমাকে অপমান করসেন কেন?আমি: কখন অপমান করলাম।আপনার ইরান যাবার টিকিট ভিসা হৈসে কিনা জিগাইলাম।আলাম ভাই: হ, আমি থাকব না/ইরান চলে যাব।বাংলাদেসের মানুষ ভাল না।ইরানের লোক কথা দিয়ে কথা রাখে।।আমি: ভাই, মাফ করে দেয়া যায় না।ক্ষেমা করা দেন।তবুও আনব্লক করেন।আলাম ভাই: আপনে আমাকে নিয়ে ছড়া লিখসেন কেন?আমার চোখ লাল? আমার চোখ ত কাল।হাসিব: আলাম ভাই আপনার চুশমাটা কুন দুকান থেকে কিনসেন?আলাম ভাই: চশমা নিয়ে মশকরা করবেন না।এটা আমার স্টায়েল।হাসিব: আমারে দেন নাইলে কন, কুন দুকান থেকে কিনসেন?আলাম ভাই: এইটা গুলিস্তানে টুকাই পাইসি।এইসব আলাপে দেখি অচেনা বাঙালি বারান্ডায় দাড়িয়ে, খাঁচার মধ্যে চড়ুই পাখি নিয়ে গুতাগুতি করসে। আমি: আলাম ভাই, চড়ুই নিকটা কি আপনার?আলাম ভাই চুপপচাপ।আমি: আপনার পেজে লিংকও আছে। কালকে মুজতবাও পোস্ট দিল।আলাম ভাই: মুজতবা পুরা বেয়াদব পোলা,সারাদিন বেয়াদবি করে।আমি: কি বলেন? ও টিনএজ ছেলে,আমাদের ছোট ভাই।আলাম ভাই: মুজতবা আমার ১ম পোস্টে আমাকে গুড়ে মলম ডাকসে,কোন কারন ছারা।অচেনা বাঙালি: দুররো আলাম ভাই, মুজতবা বাচ্চা ছেলে,আপনি ওর সাথে ভাল ব্যাবহার করেন,ও সম্মান করবে।এরম আড্ডায় সন্ধ্যা হয়ে আসল।আরণ্যাক যাযাবর বলল - আলাম ভাই/আপনার একটা পুস্ট পরছিলাম-আপনি ভাল রান্না করেন। আজকে আমরা সবাই মিলে রান্না করব।একত্রে খাব।আলাম ভাই মনে হয় রাগ করল। বলল - ফ্রিজে কিছু ছোলাবুট আছে কালকের ইফতারের,ওটা ডিম মাখিয়ে ভাজি করি?যাযাবর রাজি হল না।যাযাবর: খিদা লাগসে ভাত খাব। নাজির শাইল চাইলের ভাত।আলাম ভাই: আপনাদের এইটা ব্যাড হেবিট। নাজিরুল ভাই ভাল লোক,উনারে নাজিরশাইল বলেন কেন?যাযাবর: আচ্চা ভাই/আর বলব না।কালকে রাতে নাজিরশইলের সাথে মিটমাট হইসে।একে অপরকে ঈদ মুবারাক বলসি।আলাম ভাই: আচ্ছা/ঠিকাসে।অচেনা বাঙালি: সাথে আইটেম কি?আলাম ভাই: বেজির মাংশ।অচেনা বাঙালি: ওয়াক, বেজির মাংশ কে খায়?আলাম ভাই: ঠাট্টা করলাম, উটের মাংশ আছে আর ছাগলের মাংশ আছে।কোনটা খাবেন?হাসিব: ছাগলের মাংশ কোন দেশি? ইরানি?আলাম ভাই: ইরানি মাংশ ২৭ রোজার রাতে শেষ।এখন আছে ট্রাইয়াংগুলার ছাগলের মাংশ,মোহম্মদপুর বাজার থেকে কিনসিলাম।যাযাবর: এটা আবার কেমন ছাগল?খাসি না পাঁঠা?আলাম ভাই: মালিক বলল কালকেই নাকি ছাগলটার বছরপুর্তি হইসে, আর পাললে মাংশ শক্ত হয়ে যাইব,তাই বিকৃ করে দিল।আমি কিনলাম ৩ কেজি।আলাম ভাই রান্না করল। এরমাঝে আমরা ইরানি খুরমা খেলাম।জামাতে এশারের নামাজ পরলাম। শেষে খাওয়া দাওয়া। হঠাত মুজতবার ফুন - 'ভাইয়া তোমরা কোথায়,আমি আসতেসি'।আলাম ভাই সাথে সাথে আমাদের পায়ে ধরে বসল - আলাম ভাই: ভাই/মাফ চাই,ঐ ইবলিশটারে আমার বাসায় আইনেন না।হাসিব: আসুক না ক্ষতি কি?আলাম ভাই: মুজতবা আমারে জুতাবে বলসে।ওর চেহারা দেখলেও ভয় লাগে।আমি ক্ষমা চাই।আরণ্যক যাযাবর: তাইলে উদাসীরে ডাকি?আলাম ভাই: আপনেরা যা বলবেন তা হবে/আমারে জালাইয়েন না খালি।তখন মাথামোটা আরেক চামচ ভাত নিয়ে বলেমাথামোটা: বেজি আলাম, আমারে ঝোল দে। আর একটা লেবু কেটে আন।হাসিব: যা বলব তা করবি?আলাম ভাই: হ করব, আপনাগো সবাইরে আনব্লক করব। খালি আমারে গুতাইয়েন না।খাওয়া শেষ হল।আমরা চলে আসব। তখনহাসিব: আলাম, তুমার চশমাটা আমারে দাও ত।আলাম ভাই: (কান্না শুরু করে) ঐটা না নিলে হয় না>হাসিব: দিবি ? নাকি থাপ্পড় খাবি?আলাম ভাই: নেন, চুশমা নেন। (কান্না করে, আমার চুশমা নিয়ে গেল রে)আমি: আমারে কিসু দিবানা আলাম ভাই?আলাম ভাই: নেন,আপনেরে আমার চড়ুই পাখি দিলাম, খালি মুজতবারে আপনি সামলাইয়েন।যাযাবর: আালাম ভাই, তুমার কোরেল এর সিডিটা আমারে দাও, সাথে জুকসের বইটা।আলাম ভাই: আপনেরা ত সব নিয়ে যাবেন!!!!!!বাঙালি অচেনা: আমি ত কিসু নিই নাই এখনও।আলাম ভাই: আপনি আবার কি নিবেন?বাংগালি অচেনা: ওয়াদা নিলাম, কালকে সকালে সবাইরে যেন আনব্লক দিখি, নইলে উদু আর জুনাকিরে তুমার বাসার ঠিকানা কয়া দিমু।আলাম ভাই: হ বাই, আনব্লক করমু।আপনি উদুরে সামলান।মাথামোটা তখনও বসে আছে।আলাম ভাইকে বললমাথামোটা: আমারে ঐটা দাওআলাম ভাই: কি?মাথামোটা : ঐ যে ঐটা।আলাম ভাই: কোনটা?এরপর মাথামোটা কানে কানে আলাম ভাইকে কি জানি বলল।আলাম ভাই ভিতরে গিয়ে মোটা একটা বই নিয়ে আসলো, নাম - 'রসময়গুপ্ত সমগ্র (অখন্ড)।মাথামোটা মাথা ঝুকিয়ে হাসি দিল।আলাম ভাই বললআলাম ভাই: আপনে কিন্তু আমারে নিয়া আলাদা পোস্ট দিবেননা আর,আমার অপমান হয়।মাথামোটা: তুমি ব্লগে ঠিকমত থাকবা,তাইলে আমরাও জালামু না।বাসার গেট থেকে বের হইয়ে এলাম।আলাম ভাই গান গাইছে - 'লুট গ্যায়া সব, লুট গ্যায়া - - -"বাসায় আসার পরে মুজতবা আবার ফোন করল, মুজতবা: ভাইয়া,তুমরা কি কি মজা করলা আমাকে বলবা নাআমি: সেটা ত অনেক বড় গল্পমুজতবা: তাইলে আলাদা পুস্ট দিও।আমি: আইচ্ছা দিমু। এখনই দিতাসি।এই হইলো কাহিনী।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment